সোমবার, ১৪ Jun ২০২১, ০৩:৪০ অপরাহ্ন

শিরোনাম:

Welcome To Our Website...

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী বা সন্দেহভাজন রোগীর প্রতি আমানবিক না হই: ডাঃ মাসুদ কবির

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী বা সন্দেহভাজন রোগীর প্রতি আমানবিক না হই: ডাঃ মাসুদ কবির

মেহেদি হাসান ইমরানঃ করোনা ভাইরাস এ আক্রান্ত রোগী বা সন্দেহভাজন রোগীর প্রতি অমানবিক না হতে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডাক্তার মাসুদ কবির। ডাঃ মাসুদ কবির বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক। গতকাল তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ কথা তিনি জানান, এবং অনেক পরামর্শ দেন। তার ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

সেই সময় হয়ত চলে এসেছে – করোনার মহা ছড়াছড়ি। তাই হাসপাতাল ক্লিনিক গুলোকে আর কোভিড-ননকোভিড আলাদা করার সুযোগ থাকছে না। এই সত্য কর্তৃপক্ষ কে দ্রুতই উপলব্ধি করতে হবে। সরকারি-বেসরকারি সবখানেই কমপ্লিট পিপিই পরে স্বাস্থ্যকর্মীরা ডিউটি করবে। কর্মস্থলে মাস্ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোন কম্প্রোমাইজ নয়। আবারও বলছি কর্মস্থলে যথাযথ মাস্ক ব্যবহারে নো-কম্প্রোমাইজ।

বাড়িতে আক্রান্ত ব্যক্তি কে আইসোলেশনে রাখতে হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই রোগ আপনা আপনি ভাল হয়ে যায়। তবে তার সমস্ত সাপোর্ট কাছের লোকদের দিতে হবে। একজন আক্রান্ত হলে পুরা এলাকা বা গ্রাম কমপ্লিট শাট ডাউন করে লাভ নেই, বরং আইসোলেশনে রেখে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে যেন না ছড়ায় সে ব্যবস্থা নিতে হবে। যে কোন অবস্থাতেই অমানবিক হওয়া তো অমানুষের কাজ।

বাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠদের ও কোমর্বিড (যাদের এজমা, সিওপিডি, ডায়াবেটিস, ইত্যাদি রোগ আছে) সদস্যদের পুরা সময়টাই কোয়ারান্টাইন নিয়ম ফলো করতে হবে। এ ব্যাপারে তরুনদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ কাজ গুলো তরুনদেরকেই করতে হবে।

প্রত্যেক এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করুন- করোনা রোগীর জন্য আন্তরিক ভাবে কাজ করার জন্য। স্বেচ্ছাসেবীদের সামাজিক ভাবে, স্থানীয়ভাবে বা রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রনোদনা দেবার ব্যবস্থা নিতে হবে। ইতোমধ্যে সারা দেশে লক্ষ লক্ষ স্বেচ্ছাসেবক কাজ করে যাচ্ছে (যদিও কেউ প্রনোদনার আশায় নয়)।
এখনো অনেকে অসুখ লুকিয়ে রেখে শেষ সময় হাসপাতালে আসছে, হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরে অনেকেইৎআবার অমানবিক অভিজ্ঞতার স্বীকার হচ্ছেন। এ অবস্থা আর চলতে পারেনা। প্রত্যেক হাসপাতালকেই কোভিড রোগী বা সন্দেহভাজন রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। উপসর্গযুক্ত রোগীরা আর ভয়ে লুকিয়ে থাকবেন না।
প্রত্যেক সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসক সহ স্বাস্থ্যকর্মীদের যথাযথ মাস্ক ও পিপিই দিয়ে সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে কর্তৃপক্ষকে। নন-কোভিড জোন বলে এদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিবেন না। কর্তব্যরত চিকিৎসক ভাই ও বোনেরা আপনারা আপনাদের কর্মস্থলকে সুরক্ষার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিন। অথবা কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করুন। আর কোন রোগীকে ফেরানো যাবেনা। এই রোগীরা আর কেউ নয়- আমাদেরই বাবা, মা, ভাই, বোন….।
করোনা ভাইরাসে  আক্রান্ত রোগী মৃত্যু বরণ করলে আমরা প্রটেকশন নিয়েই মানবিক ভাবে তার দাফন/সৎকার করব। এ ক্ষেত্রে গ্রামে গ্রামে স্বেচ্ছাসেবীদের অগ্রগামী ভূমিকা পালন করতে হবে।

পরিশেষে, সৃষ্টিকর্তা আমাদের ক্ষমা করুন, আর আমাদের এই করোনার মহামারী থেকে রক্ষা করুন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019

Design BY POPULARHOSTBD