শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০৫:০২ অপরাহ্ন

শিরোনাম:

Welcome To Our Website...

কালীগঞ্জ থানা পুলিশের কেরামতি হাজতে রাখার পর মাদক কারবারি ছাড়; বাহক আদালতে  

কালীগঞ্জ থানা পুলিশের কেরামতি হাজতে রাখার পর মাদক কারবারি ছাড়; বাহক আদালতে  

গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে আবারো আটক বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। রাসেল নামের এক মাদক কারবারি ও কাউছার নামের এক রিকসা চালক মাদক বাহককে থানার হাজত খানায় আটকের একদিন পর মাদক কারবারিকে আর্থিক সুবিধায় ছেড়ে দিয়ে রিকসা চালক মাদক বাহককে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার হিসেবেও গরমিল। ঘটনার একদিন পর সোমবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হয়। তবে ঘটনার সাথে বোরহান শেখ নামের গ্রাম পুলিশের (চৌকিদার) সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও জানা গেছে।

অনুসন্ধানে যায়, গত ২০ জুন দিবাগত রাতে উপজেলা জামালপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড ছৈলাদি গ্রামে   উপজেলার কাপাইশ গ্রামের মোন্তাজ উদ্দিন দর্জির ছেলে মাদক কারবারি রাসেল দর্জি ৫০ পিস ইয়াবা আনতে যায়। এই সময় তার সঙ্গী ছিল উপজেলা মোক্তারপুর ইউনিয়নের পোটান (দক্ষিণ পাড়া) গ্রামের দৃষ্টি প্রতিবন্ধি আয়েছ আলীর ছেলে রিকসা চালক কাউছার (২৭)। ৫০ পিস ইয়াবা নিয়ে ফেরার সময় তাদের দু’জনকে আটক করেন ছৈলাদি গ্রামের তমিজ শেখের ছেলে গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) বোরহান শেখ। পরে ওই গ্রামের সফুর উদ্দিন শেখের ছেলে তাইজুল ইসলাম, মৃত সামছু শেখের ছেলে বাদল শেখ ও মফিজ উদ্দিন ওরফে বুইড্ডা শেখের ছেলে জয়নাল শেখ বিষয়টি সমঝোতা করেন। এ সময় চৌকিদার বোরহান শেখকে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখালে ইয়াবা রেখে মাদক কারবারি রাসেলকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সমঝোতাকারী তাজুল শেখের বিকাশ নম্বরে পরের দিন (২১ জুন) সকালে টাকাও পাঠানো হয়। কিন্তু এরই মধ্যে বিষয়টি জামালপুর ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে থানায় চলে যায়। পরে কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) বোরহান শেখকে সাথে নিয়ে অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারি রাসেল ও মাদক বহনকারী রিকসা চালক কাউছারকে আটক করে থানার হাজত খানায় রাখা হয়। পরের দিন (২২ জুন) ওই এসআই বাদী হয়ে থানায় ৪৪ পিস ইয়াবা দেখিয়ে একটি মাদক (নং ২৩) মামলা দায়ের করেন। তাতে শুধুমাত্র আসামী করা হয় মাদক বহনকারী রিকসা চালক কাউছারকে। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় থানার আরেক উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল হাশেমকে। পুলিশের গাড়ী করে রাসেল ও কাউছারকে থানা থেকে গাজীপুরের উদ্দেশ্যে নিয়ে গেলেও পথে কাপাসিয়া রোড নামক স্থানে রাসেলকে ছেড়ে দেওয়া হয় এমন অভিযোগ কাউছারের পনিবারের। তবে এর আগে মাদক কারবারি রাসেলের লোকজনের কাছ থেকে মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেন এসআই আব্দুর রহমান।

এদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা জানান, ওই এসআই’র বিরুদ্ধে এর আগেও বেশ কয়েকবার আটক বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। তাকে নিয়ে দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ফলাও করে লেখালেখিও হয়েছে। কিন্তু পুলিশ কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় আগের চেয়ে আরো বেশি বেপরোয়া হয়েছে। তাছাড়া এই ঘটনায় চৌকিদার বোরহানকে দিয়ে বানিজ্য করলেও তাকে ওই মামলার স্বাক্ষি বানানো হয়েছে। এতে বোরহান দোষি হলেও মামলা থেকে রেহাই পায়।

মাদক মামলার আসামী রিকসা চালক কাউছারের পিতা দৃষ্টি প্রতিবন্ধি আয়েছ আলী সাংবাদিকদের কন্দনরত অবস্থায় জানান, আমরা গবির বলে আসামী হতে হলো। টাকা দিলে রাসেলের মত কাউছারও ছাড় পেত। এই বিচার কার কাছে দিব? আল্লাহই একমাত্র বিচারক তিনি সব কিছুর বিচার করবেন।

এ ব্যাপারে চৌকিদার বোরহানের মুঠো ফোনে কল করলে তিনি ৫০ পিস ইয়াবাসহ আটকের বিষয়টি স্বীকার করলেও মাদক কারবারির কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে মোবাইল ফোনের লাইন বিচ্ছিন্ন করেন। পরে একাধিকবার ফোন দিয়ে তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

জামালপুর ইউপি চেয়ারম্যান জানান, ঘটনার পরে তিনি চৌকিদার বোরহানের সংশ্লিষ্টতার কথা শুনে থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করেছেন। কিন্তু পুলিশের লোকজন এসে পরে যা করলো তা তিনি দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি দুঃখ করে বলেন, আসামী করতে হলে দু’জনকেই করতো। কিন্তু একজন মাদক কারবারিকে ছেড়ে দিয়ে মাদক বহনকারীকে কেন মামলা দেওয়া হলো?

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবুল হাশেম জানান, এত কিছুর ব্যাপারে তার জানা নেই। তাকে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে তিনি তা তদন্ত করছেন।

এ ব্যাপারে থানায় গিয়ে এসআই আব্দুর রহমানকে না পেয়ে তার মুঠো ফোনে কল করা হলে তিনি দু’জনকেই আটকের বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে রাসেলের সাথে ইয়াবা না পাওয়ায় ওসি স্যারের সাথে কথা বলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আর কাউছারকে নিয়মিত মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আর ৫০ পিস ইয়াবার মধ্যে ৬ পিস ভেঙ্গে যাওয়ায় মামলায় ৪৪ পিস উল্লেখ করা হয়েছে বলে তিনি জানান। টাকার বিনিময়ে রাসেলকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে অভিযোগ করলে তিনি বলেন, ভাই সব কথা তো ফোনে বলা যায় না। সন্ধ্যায় থানায় আসনে পরে কথা হবে।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুবকর মিয়া জানান, মাদক কারবারি রাসেলের বিষয়টি তার জানা নেই। কাউছারকে ইয়াবাসহ আটক করায় তাকে মামলা দিয়ে গাজীপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019

Design BY POPULARHOSTBD